বাছাইকরা কিছু বাংলা বাগধারা

বাছাইকরা কিছু বাংলা বাগধারা

বাছাইকরা কিছু বাংলা বাগধারা

ন—
ননীর পুতুল= শ্রমবিমুখ।
নখদর্পণে থাকা= পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আয়ত্তে থাকা।
নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ= নিজের ক্ষতি করে পরের ক্ষতিসাধন।
নেই আঁকড়া= একগোঁয়ে।
নকড়া ছকড়া= হেরাফেলা করা।
নবমীর দশা= মূর্ছা।
নিরানব্বইয়ের ধাক্কা= সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি।
নয় ছয়= অপচয়।
প—
পটল তোলা= মারা যাওয়া।
পান্তা ভাতে ঘি= অপব্যবহার।
পালের গোদা= দলপতি।
পায়াভারী= অহংকার।
পাথরে পাঁচকিল= অদৃষ্ট যার সুপ্রসন্ন।
পোয়াবারো= সৌভাগ্য।
ফ—
ফোঁড়ন দেয়া= উত্তেজনাকর টিপ্পনী কাটা।
ফপর দালালি= গায়ে পরে মধ্যস্থগিরি।
ফাঁটা-কপাল= মন্দভাগ্য।
ফেটে ওঠা= ধনবান হওয়া।
ফুলের আঘাত= সামান্য দুঃখ কষ্ট।
ব—
বক ধার্মিক= ভণ্ড সাধু।
বুকের পাটা= সাহস।
বাঁ হাতের ব্যাপার= ঘুষ গ্রহণ।
বেগার ঠেলা= বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করা।
বাঘের আড়ি= নাছোড়বান্দা/ দুশমণি।
বাঘের দুধ/চোখ=দুঃসাধ্য বস্তু।
ব্যাঙের সর্দি= অসম্ভব ঘটনা।
ব্যাঙের আধুলি= সামান্য সম্পদ।
বর্ণচোরা আম= কপট ব্যক্তি।
বিনা মেঘে বজ্রপাত= আকস্মিক বিপদ।
বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে= জীবমাত্রই স্বাভাবিক অবস্থানে সুন্দর।
বারো মাসে তেরো পার্বণ= উৎসবের আধিক্য।
বারো ভূত= আত্মীয় লোকজন।
বালির বাঁধ= অস্থায়ী বস্তু।
বিষের পুটলি= হিংসুটে/বিদ্বেষী।
বস্তন্তের কোকিল= সুসময়ের বন্ধু।
বিসমিল্লায় গলদ= গোড়ায় গলদ।
বিড়াল তপস্বী= ভণ্ড সাধু।
বিড়ালের খুদ= শ্রদ্ধার সামান্য উপহার।
বুদ্ধির টেঁকি= নিরেট মূর্খ।
বাড়া ভাতে ছাই= আশা ভঙ্গ।
ভ—
ভুঁই ফোড়= অর্বাচীন/নতুন।
ভিজে বিড়াল= কপটচারী।
ভিটায় ঘুঘু চড়ানো= সর্বনাশ করা।
ভূতের ব্যাগার= অযথা শ্রম।
ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ= অপব্যয়।
ভানুমতির খেলা= যাদুবিদ্যা।
ভরাডুবি= সর্বনাশ।
ভূশণ্ডির কাক= দীর্ঘজীবী।
ভেরেণ্ডা ভাজা= অকাজের কাজ।
ভস্মে ঘি ঢালা= নিষ্ফল কাজ।
ভবলীলা সাঙ্গ হওয়া= মারা যাওয়া।
ম—
মগের মুল্লুক= অরাজক দেশ।
মাছের মা= নির্মম।
মাকাল ফল= অন্তঃসারশূন্য।
মাটির মানুষ= নিরীহ ব্যক্তি।
মহাভারত অশুদ্ধ= বড় রকমের অপরাধ।
মামার বাড়ির আবদার= সহজে মেটে এমন আকাঙ্খা।
মাথা খাওয়া= সর্বনাশ করা।
মোমের পুতুল= সামান্য পরিশ্রমেই কাতর হয় এমন লোক।
য—
যক্ষের ধন= অতিশয় কৃপণের ধন।
যমের অরুচি= সহজে যে মারা যায় না এই অর্থে।
যমের দোসর= নিষ্ঠুর ব্যক্তি।
যত গর্জে তত বর্ষে না= আড়ম্বরের তুলনায় কাজ কম।
যার লাঠি তারমাটি= জোর যার মুল্লক তার।
যাহা বাহান্ন তাহা তেপ্পান্ন= খুব সামান্য তফাত।
র—
রুই-কাতলা= পদস্থ বা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি।
রাঘব বোয়াল= সর্বগ্রাসী ক্ষমতাসীন ব্যক্তি।
রাজঘোটক= চমৎকার মিলন।
রাবণের চিতা= চির অশান্তি।
রাবণের গোষ্ঠী= বড় পরিবার।
রাম রাজত্ব= শান্তি-শৃঙ্খলাযুক্ত রাজ্য।
রামগরুড়ের ছানা= গোমড়ামুখো লোক।
রাশভারি= গম্ভীর প্রকৃতির।
রক্তের টান= স্বজনপ্রীতি।
ল—
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার= অফুরন্ত ভাণ্ডার।
লঙ্কাকাণ্ড= তুমুল কাণ্ড।
লেফাফা দুরস্ত= বাইরে পরিপাটি।
লগন চাঁদ= ভাগ্যবান।
লক্কা পায়রা= ফুলবাবু।
লম্ব দেয়া= চম্পট দেয়া।
শ—
শরতের শিশির= সুসময়ের বন্ধু।
শকুনি মামা= কুচক্রী লোক।
শাঁখের করাত= উভয় সংকট।
শাক দিয়ে মাছ ঢাকা= দোষ গোপনের বৃথা চেষ্টা।
শনির দশা= দুঃসময়।
শনির দৃষ্টি= কুদৃষ্টি।
শাপে বর= অনিষ্টে ইষ্ট লাভ।
শিরে সংক্রান্তি= আসন্ন বিপদ।
শিয়ালের যুক্তি= অকেজো যু্ক্তি।
শিবরাত্রির সলতে= একমাত্র বংশধর।
শ্রম রাখি না কুল রাখি= উভয় সংকট।
ষ—
ষোলআনা/ষোলকলা= সম্পূর্ণ।
ষণ্ডামার্কা= একগুঁয়ে ও বলিষ্ঠ।
ষোল কড়াই কানা= সম্পূর্ণ বিনষ্ট।
স—
সাক্ষীগোপাল= কর্তৃত্বহীন দর্শকমাত্র।
সুখের পায়রা= বিলাসী/সুসময়ের বস্তু।
সাত পাঁচ ভাবা= নানারকম চিন্তা।
স-সে-মি-রা অবস্থা= কাণ্ডজ্ঞানহীন অবস্থা।
সরিষার ফুল দেখা= চোখে আঁধার দেখা।
সোনার পাথরবাটি= অসম্ভব বস্তু।
সোনায় সোহাগা= মণি কাঞ্চন যোগ।
সাপে নেইলে= শত্রুভাবাপন্ন।
স্বখাত সলিল= নিজ বিপদ ডাকা।
হ—
হ-য-ব-র-ল= বিশৃঙ্খলা।
হাতির পাঁচ পা দেখা= দুঃসাহসী হওয়া।
হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলা= সুযোগ হেলায় হারানো।
হরিষে বিষাদ= আনন্দে বিষাদ।
হাড় হাভাতে= হতভাগ্য।
হাড়হদ্দ= নাড়ি নক্ষত্র।
হস্তীমুর্খ= বোকা।
হাড় জুড়ানো= শান্তি পাওয়া।
হালে পানি পায় না= অকৃতকার্য হওয়া।
হাতটান= চুরির অভ্যাস।
হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গা= গোপ কথা ফাঁস করা।
সম্বিতম্বি= তর্জন-গর্জন।